নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই আশাব্যাঞ্জক ফল করল বন্ধন ব্যাঙ্ক। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের মোট ব্যবসা ১১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ছাড়িয়ে গেল ৩.২ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি। একই সঙ্গে এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা পৌঁছেছে ৫০২ কোটি টাকায়। সোমবার ব্যাঙ্কের তরফে এই আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্যালোচিত ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের আমানত এবং ঋণ বিতরণ, এই দুই ক্ষেত্রেই জোরালো বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
এক নজরে প্রথম ত্রৈমাসিকের খতিয়ান:
- মোট ঋণ পোর্টফোলিও: বার্ষিক ১৬% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা।
- মোট আমানত: ৭% বেড়ে পৌঁছেছে ১.৬৫ লক্ষ কোটি টাকায়।
- খুচরা আমানত: মোট সঞ্চয়ের প্রায় ৭৪% স্থান পেয়েছে খুচরা আমানতকারীদের অবদান।
- CASA অনুপাত: চলতি ও সঞ্চয়ী আমানতের বা কাসার অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৯.৪%।
- মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর): ব্যাঙ্কের ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও রয়েছে ১৮.২ শতাংশে, যা নিয়ামক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়ে বেশ খানিকটা উপরে।
বন্ধন ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, এই প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ব্যাঙ্কের বিস্তৃত শাখাজাল, উন্নত পরিচালন দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি। বর্তমানে দেশের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৬,৪০০টি ব্যাঙ্কিং আউটলেটের মাধ্যমে বন্ধন ব্যাঙ্ক ৩.২ কোটিরও বেশি গ্রাহককে পরিষেবা দিচ্ছে। সংস্থায় মোট কর্মীর সংখ্যা বর্তমানে ৭৪,৫০০ ছাড়িয়েছে।
প্রথম ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রসঙ্গে বন্ধন ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পার্থ প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, ‘চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের ফল প্রমাণ করে যে বন্ধন ব্যাঙ্কের ভিত কতটা মজবুত এবং গ্রাহকদের আমাদের ওপর আস্থা কতটা গাঢ়। আমরা মূলত প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং শাখা নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছি। পাশাপাশি কেবল একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে, খুচরা ঋণসহ বিভিন্ন ধরণের ব্যবসার মাধ্যমে পোর্টফোলিওকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
মূলত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত প্রসারের মাধ্যমেই আগামী দিনে সুষম ও দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

