মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস-এর পূর্বাঞ্চল সিএসআর উদ্যোগ: শিক্ষার আলো ছড়ানোর এক প্রয়াস

মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম গয়না খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান, তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি বা সিএসআর  আরও বিস্তৃত করেছে পূর্ব ভারতের শিক্ষার্থীদের জন্য। সম্প্রতি ঘোষিত পূর্বাঞ্চল বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ২,০০০ জন শিক্ষার্থীকে ১.৮ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করবে এটি তাদের বৃহত্তর ২০০ কোটি টাকার জাতীয় সিএসআর প্রতিশ্রুতি (২০২৬–২৭ অর্থবছর)-এর অংশ, যা ১৯টি রাজ্যের ৩,০০০+ স্থানে কার্যকর হবে এবং প্রায় ২ লক্ষ মানুষকে উপকৃত করবে।

শিক্ষাকে কেন্দ্র করে CSR-এর বিস্তার

শিক্ষা দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। মালাবার গ্রুপ এই সত্যকে সামনে রেখে বৃত্তি কর্মসূচি চালু করেছে, যাতে আর্থিক সমস্যার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বন্ধ না করে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ৩৩,০০০ জন মেয়ের জন্য বৃত্তি প্রদান এবং পথশিশুদের জন্য মাইক্রো-লার্নিং সেন্টার গড়ে তোলা, যা প্রথম এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের কার্যক্রম

  • ঝাড়খণ্ডে: ২১৭টি মাইক্রো-লার্নিং সেন্টার, প্রতিদিন ৭,১০৯টি খাবার বিতরণ, ২৫টি পানীয় জলের কূপ।
  • ওড়িশায়: ১৮৩টি মাইক্রো-লার্নিং সেন্টার, প্রতিদিন ৫,০১৭টি খাবার বিতরণ, ১৩২টি পানীয় জলের কূপ।
  • পশ্চিমবঙ্গে: ১৯২টি মাইক্রো-লার্নিং সেন্টার, প্রতিদিন ৬,২৯২টি খাবার বিতরণ, ৪০২টি পানীয় জলের কূপ।

এই উদ্যোগগুলো শুধু শিক্ষার সুযোগই বাড়াচ্ছে না, বরং ক্ষুধা নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো মৌলিক ক্ষেত্রেও সহায়তা করছে।

এই প্রসঙ্গে মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. পি. আহাম্মদ জানান, শিক্ষা ব্যক্তিগত সামাজিক স্তরে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তৈরির অন্যতম কার্যকর উপায়। আমাদের বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সেইসব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই যারা সফল হওয়ার ক্ষমতা রাখে কিন্তু আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন।”  এর পাশাপাশি সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস-এর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তারা শুধু শিক্ষার্থীদের জীবনই বদলাচ্ছে না, বরং সমগ্র সমাজকে একটি টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + twelve =