শুভাশিস বিশ্বাস
রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। আর তাতেই বেজায় চটেছেন রাজগঞ্জ বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় ৷ টিকিট না-পেয়ে ক্ষোভে আগেই তিনি জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়ে বসেন। এবার সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণাও করে বসেন খগেশ্বর। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, তৃণমূল সংগঠন তৈরি থেকে উত্তরবঙ্গে যে কয়েক জন নেতা মমতার রাজনৈতিক সঙ্গী হয়েছেন, খগেশ্বর তাঁদের অন্যতম। ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে প্রথম জয়লাভ করেন। তারপর ২০১১ সাল ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা রাজগঞ্জ থেকে জিতে আসছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী যখন কংগ্রেস ছেড়ে দল গঠন করেন, সেই সময় থেকে তাঁর সঙ্গে আমি। নিশ্চয়ই এমন কোনও নেতা এমন টাকা দিয়েছে যে, সে জন্য আমার নাম বাদ পড়ল। যিনি কোনও দিন তৃণমূল দলটাই করলেন না, তিনি আমার বিধানসভায় প্রার্থী!’ এখানেই শেষ নয়, বিদায়ী বিধায়ক আরও বলেন, ‘আমার প্রতি যে অবিচার হল তার মাসুল দিতেই হবে শাসকদলকে।’ তবে এরপরই ফোন যায় স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই ফোনের পরই বরফ গলে। নিজের প্রতিবাদী অবস্থান থেকে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান খগেশ্বর।
এদিকে রাজগঞ্জের রাজনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে জিতে প্রথমবার রাজগঞ্জ বিধানসভা থেকে বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি ৷ এরপর ২০১১ সালের পালাবদলের সময় থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজগঞ্জ বিধানসভা থেকে ভোটে লড়ে জিতেছেন খগেশ্বর রায় ৷ ২০১১ সালে খগেশ্বর রায় মোট ৭৪ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়েছিলেন ৷ তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৭ হাজার ২০ ভোট। এরপর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খগেশ্বর রায় পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিপক্ষ বিজেপির সত্যন্দ্রনাথ মণ্ডল পেয়েছিলেন ৭৫ হাজার ১০৮ ভোট ৷ তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ১৪ হাজার ৬৭৭ ভোট। আর ২০২১ সালে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়েছিলেন খগেশ্বর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী সুপেন রায় পেয়েছিলেন ৮৮ হাজারা ৮৬৮ ভোট। খগেশ্বর রায় ১৫ হাজার ৭৭৩ ভোটে জয়ী হন।
যে রাজগঞ্জ বিধানসভা থেকে প্রথম প্রার্থী হতে চলেছেন স্বপ্না সেটি রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। হিমালয়ের পাদদেশে উর্বর তরাই অঞ্চলে অবস্থিত এই রাজগঞ্জ। তিস্তা, জলঢাকা, করতোয়া, ডায়ানা এবং নেওরার মতো নদী দ্বারা সৃষ্ট মৃদু ঢালু পলি সমভূমি এবং ঢেউখেলানো ভূখণ্ডের মিশ্রণ এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, যা ছোট ছোট স্রোতধারায় পরিপূর্ণ। এই অঞ্চলে প্রধানত ধান ও পাটের ব্যাপক কৃষিকাজ হয় এবং উত্তরাঞ্চলে চা চাষও হয়ে থাকে। বর্ষাকালে এই অঞ্চলের শাখান্বেষী নদী এবং পূর্ণ জলপ্রবাহের কারণে বন্যা একটি নিয়মিত সমস্যা। স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষি, চা বাগান, বনজ পণ্য এবং ছোট ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ, যদিও প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। জেলা সদর জলপাইগুড়ি শহর থেকে রাজগঞ্জ প্রায় ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত। উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলিগুড়ি ৪৪ কিমি দূরে, আর কোচবিহার শহর প্রায় ৭০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ৫২৬ কিমি দূরে। উত্তরে ভুটান ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে; নিকটতম নেপালি প্রবেশপথ প্রায় ১২০ কিমি দূরে, আর ভুটানের ফুয়েনশোলিং প্রায় ১৩৫ কিমি দূরে। বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৫৮ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত, যেখানে হলদিবাড়ি বা মেখলিগঞ্জ হয়ে পৌঁছানো যায়।
জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত রাজগঞ্জ তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এবং এটি জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজগঞ্জ সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জলপাইগুড়ি ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজগঞ্জে ১৫টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ২০০৯ সালে একটি উপনির্বাচনও ছিল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার এই আসনে জয়লাভ করে। এই সময় বামদুর্গ বলেই বঙ্গ রাজনীতিতে পরিচিত ছিল এই রাজগঞ্জ বিধানসভা। অন্যদিকে কংগ্রেস দল ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হয়। তবে ২০০৯ সালের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে টানা চারবার জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর জয়ের ধারা ভেঙে দেয়। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, সিপিআই(এম)-এর ক্ষমতাসীন বিধায়ক মহেন্দ্র কুমার রায় লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর এই উপনির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের খগেশ্বর রায় টানা চারবার এই আসনটি ধরে রাখেন। শুধু আসন ধরে রাখাই নয়, ২০১১ সালে তিনি সিপিআই(এম)-এর অমূল্য চন্দ্র রায়কে ৭,০২০ ভোটে পরাজিত করেন এবং ২০১৬ সালে সিপিআই(এম)-এর সত্যেন্দ্র নাথ মণ্ডলকে ১৪,৬৭৭ ভোটে হারিয়ে তাঁর জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে ২০২১ সালে রাজগঞ্জের রাজনীতিতে আসে পরিবর্তন। সিপিআই(এম)-এর ভোটের ব্যাপক পতন ঘটে এবং দলটি মাত্র ৫.৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে অনেক পিছিয়ে চলে যায় তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে তৃণমূলের ৪৮.৫০ শতাংশ ভোটের বিপরীতে ৪১.১৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। ২০২১ সালে খগেশ্বর রায়ের জয়ের ব্যবধান ছিল ১৫,৭৭৩ ভোট। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনেও এই একই ধরনের প্রবণতা নজরে এসেছে। ২০১৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে ৪,৩২০ ভোটে পিছিয়ে থেকে বিজেপি তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সিপিআই(এম)-এর জায়গা দখল করে। ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির চেয়ে তাদের ব্যবধান ছিল ৭,৪৮০ ভোটের।
এদিকে জনসংখ্যার বিচার ২০২৪ সালে রাজগঞ্জে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৫৫,৬৫৩ জন, যা ২০২১ সালের ২,৪৪,১৬৩ জন এবং ২০১৯ সালের ২,৩৩,৫৪৭ জনের চেয়ে বেশি। তফসিলি জাতিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫১.০৩ শতাংশ), তফসিলি উপজাতিরা ৮.৪৬ শতাংশ এবং মুসলিমরা ২০.৮০ শতাংশ। রাজগঞ্জ মূলত একটি গ্রামীণ এলাকা, যেখানে ৮১.১৪ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার এবং ১৮.৮৬ শতাংশ শহুরে ভোটার রয়েছেন। এই নির্বাচনী এলাকাটি শক্তিশালী ভোটার অংশগ্রহণের জন্য পরিচিত, যেখানে ২০১৬ সালে ভোটদানের হার সর্বোচ্চ ৯০.০১ শতাংশে পৌঁছেছিল এবং ২০২৪ সালে তা সর্বনিম্ন ৮৬.৭৬ শতাংশে নেমে এসেছিল। ২০২১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮৯.১৩ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৮.৬৭ শতাংশ এবং ২০১১ সালে ৮৯.৫৯ শতাংশ।
অর্থাত, তিনটি বিধানসভা ও তিনটি লোকসভা নির্বাচনসহ বিগত ছয়টি নির্বাচনের সবকটিতেই এগিয়ে থাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সুস্পষ্ট ফেভারিট হিসেবেই লড়তে যাচ্ছে। তবে, বিজেপি যেহেতু ক্রমাগত ব্যবধান কমিয়ে আনছে এবং এখন জয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে, তাই তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মতুষ্টিতে ভুগলে বড় বিপদ হতে পারে শাসকদলের, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বিজেপি যদি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে পারে এবং সরকারবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগাতে পারে, তবে অঘটন ঘটা অসম্ভব কিছুই নয়।
এমনই এক প্রেক্ষিতে ২০১১ সাল ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা রাজগঞ্জ থেকে জিতে আসা প্রার্থীকে সরিয়ে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত স্বপ্না বর্মণকে প্রার্থী করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এমন এক ঘটনায় খগেশ্বর রায়ের অভিযোগের তির সরাসরি প্রতীক জৈন-এর সংস্থা আইপ্যাক-এর দিকে। তাঁর দাবি, ‘আইপ্যাক টাকা খেয়ে আমার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।’ রাজগঞ্জের নতুন প্রার্থী, অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকেও একহাত নেন তিনি। খগেশ্বরের মতে, ‘স্বপ্নাকে রাজগঞ্জের কেউ চেনে না। দু-একজন ছাড়া তাঁর নামও কেউ শোনেনি। এই কেন্দ্রে স্বপ্নার হার নিশ্চিত।’ এখানেই শেষ নয়, একেবারে হুমকির সুরেই খগেশ্বর বলেন, ‘আর একদিন দেখব। আমাকে দল প্রার্থী করবে না, এটা ভাবতেই পারছি না। একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করল না কেউ। দল আমাদের সঙ্গে যে কাজটা করল, এর শেষ দেখে ছাড়ব। দল যদি প্রার্থী না-করে, তাহলে দলকে উচিত শিক্ষা দেব এই রাজগঞ্জের মাটিতে।’ তিনি আরও দাবি করেন যে, দলের পক্ষ থেকে টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল বলেই তিনি নির্বাচনী প্রচারে ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেছেন। পাশাপাশি, দলের ভিতরেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে খগেশ্বর এও বলেন, ’আমাকে সরিয়ে দিতে পারলে অনেকের সুবিধা হবে। সেই কারণেই আমাকে সরানো হল।’ তাঁর এক ঘনিষ্ঠের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন৷ খগেশ্বরদা থেকে কর্মীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু রাজগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী নাম ‘স্বপ্না বর্মণ’ বলতেই সব উৎসাহ যেন এক লহমায় মাটি হয়ে যায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় টিভি৷’ এরপর অনুগামীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসেই জলপাইগুড়ি জেলার তৃণমূলের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খগেশ্বর। কিছুক্ষণ বাদে জেলার চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন।
এর রেশ ধরে খগেশ্বর এও দাবি করেন,তাঁর মান ভাঙাতে কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, আলিপুরদুয়ারের সৌরভ চক্রবর্তী, বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ও অর্ঘ্য রায়প্রধানরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এদের অনেকেই দল ছাড়তে চেয়েছেন। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে দিয়ে তাঁকে ফোন করিয়ে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান বলেও দাবি করেন এই বিক্ষুব্ধ নেতা। এদিকে এই ঘটনায় বিপাকে পড়েন প্রথমবার ভোটের টিকিট পাওয়া স্বপ্না বর্মন। এতো কিছুতেও চিঁড়ে না ভেজায় বৃহস্পতিবার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন যেতেই একেবারে ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদল করেন খগেশ্বর। যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি এশিয়াডে হেপ্টাথেলনে সোনাজয়ী অ্যাথলিট।
এদিকে একদা বামেদের দুর্গ বলে পরিচিত রাজগঞ্জে হাত গুটিয়ে বসে নেই বামেরাও। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ঘুরে দাঁড়াতে চান। আর সেই কারণেই খগেশ্বর ইস্যুতে জোড়াফুল শিবির যখন ব্যতিব্যস্ত তখনই রাজগঞ্জ ব্লকের সীমান্তবর্তী ভাঙ্গামালি ছোট চা বাগানের শ্রমিকদের মাঝে ও খুনিয়া হাটের ব্যবসায়ী ও হাটে আসা মানুষদের মধ্যে প্রচার সারতে দেখা যায় রাজগঞ্জের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী খরেন্দ্র নাথ রায়কে। এই প্রচারে তাঁর পাশে দেখা যায় মহিলা নেত্রী রিনা সরকার, সিপিআই(এম) নেতা মুক্তাল হোসেন এরিয়া কমিটির সম্পাদক রতন রায়, রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক ও জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্র কুমার রায় সহ সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের। জনসংযোগ সারতে কথা বলেন এলাকার চা শ্রমিকদের সঙ্গে। কথা হয় তাঁদের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে। এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম, আলু চাষিদের থেকে সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু কেনার। তিনি চা শ্রমিক ও কৃষকদের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বামফ্রন্ট সরকারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি তুলে ধরেন, বর্তমান তৃণমূল সরকারের সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালনের কথাও। সোচ্চার হতে দেখা যায় এসআইআর প্রসঙ্গেও। ভোটাধিকার রক্ষায় লড়াই জোরালো করার আহ্বানও জানাতে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি প্রার্থীকে কাছে পেয়ে এদিন এলাকার মানুষ তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশে থাকার বার্তাও দেন।
তবে রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়কের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শাসকদলের কাছে এক আলাদা বার্তা যে দিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। খগেশ্বর রায় হয়তো তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায় আপাত ভাবে তাঁর অবস্থান বদলেছেন ঠিকই তবে আদতে তাঁর মনে কী চলছে তা একমাত্র তিনিই জানেন। আর এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে শাসকদলের অন্দরে যে লড়াই চলছে তাতে রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড পাবেন বিরোধী দলের প্রার্থীরা তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।

