শিলিগুড়ির পদ্মঘাঁটির দখল নিতে মরিয়া জোড়াফুল শিবির

শুভাশিস বিশ্বাস

 

শিলিগুড়ি বিধানসভা। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভার মধ্যে একটি। তবে উত্তরবঙ্গের বিধানসভাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করতে বসলে সবার আগে মনে রাখতে হবে ৫৪টি বিধানসভার মধ্যে ২২টি বিধানসভা রাজবংশী অধ্যুষিত। আর ২০১৯-এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই উত্তরবঙ্গের মাটিতেই ফুটেছে পদ্ম। এরপর থেকে উত্তরবঙ্গ পরিণত হয়েছে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও পদ্মকে ছাপিয়ে সেখানে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইছে ঘাসফুল। শিবির। আর সেই কারণেই শিলিগুড়ি বিধানসভা নিজেদের দখলে নিতে ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের তরফ প্রার্থী করা হয়েছে গৌতম দেবকে। প্রসঙ্গত, বর্তমান মেয়র এই গৌতম দেব।

প্রার্থীপদ ঘোষণার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় গৌতম দেব জানান, দলের নেতৃত্ব তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছে, তা তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক এবার ছবি বদলাবে বলে আশাও করছেন তিনি। কারণ, তিনি আশাবাদী রাজবংশীরা এবার সমর্থন জানাবেন তৃণমূলকে। তবে শুধু আশা নিয়েই পরিতৃপ্ত নন গৌতমবাবু, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে নেমে পড়েছেন প্রচারের কাজে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দলীয় কর্মীরাও, যারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’। এদিকে প্রচারে বেরিয়ে গৌতম দেবকে এও দাবি করতে দেখা যায়, ‘রাজবংশীদের উন্নয়নে একাধিক কাজ করেছে রাজ্য সরকার। রাজবংশীরা বুঝতে পারছেন তৃণমূল একমাত্র উন্নয়ন করতে পারে। এর আগে উপনির্বাচনে মানুষের জনমত বিজেপির বিপক্ষে গিয়েছে। এবার আমরা আশাবাদী। উত্তরের রাজবংশী ভোট এবার তৃণমূল পাবেই।’ উল্টোদিকে শিলিগুড়ির বিজেপির প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, ‘রাজবংশীরা আমাদের কাছে ভোটব্যাঙ্ক নয়। ওরা বঞ্চিত। এই সমাজ আমাদের পাশেই রয়েছে। এবারের ভোটেও রাজবংশী ভোট আমাদের কাছেই থাকবে। তৃণমূল যতই চেষ্টা করুক, লাভ হবে না।’

প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ থেকে ৩০ এবং ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড শিলিগুড়ি বিধানসভার অধীনে। মোট ৩৩টি ওয়ার্ড রয়েছে শিলিগুড়ি বিধানসভাতেই।বাকি ১৪টি ওয়ার্ড ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার অধীনস্থ। যেখান থেকে বিধানসভা ভোটে লড়বেন না বলে আগেই ঘোষণা করেছেন গৌতম। ৯, ১২ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিজেপির। আবার ১৯, ২২ এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ড সিপিএম, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কংগ্রেসের দখলে। বাকি ২৬টি ওয়ার্ডে শাসক তৃণমূল। আর ওই বিরোধী ওয়ার্ডগুলিতেই এবার প্রচারে জোর দিচ্ছেন গৌতম। জনসংযোগ বাড়াতে গত বছর পুরনিগমের সমস্ত ওয়ার্ডের মানুষের কাছে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই গৌতম দেবকে খেতে হয় এক বড় ‘ঠোক্কর’। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে বেরিয়ে সেখানকার নিকাশি ব্যবস্থা, জড়ো হওয়া জঞ্জাল এবং রাস্তার দশা দেখে মেজাজ হারান গৌতম। সঙ্গে গৌতমবাবুর নজরে আসে একরাতের বৃষ্টিতে খানাখন্দ, নর্দমা উপচে নোংরা জল রাস্তায় উঠে এসেছে। এরপরই পুর আধিকারিকদের ফোন করেন তিনি। এই ফোনের পরই শুরু হয় কাজ। যা দেখেশুনে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ গৌতম দেবকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘মেয়রকে বলো’-র নম্বর কাজ করছে না?’ এদিকে গৌতম দেবকে প্রচার করতে দেখে এলাকার বাসিন্দারাও একজোট হয়ে নানা অভিযোগ তাঁর সামনে তুলে ধরেন। সব অভিয়োগই শোনেন গৌতম। তারপর রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেন। সঙ্গে এও বলেন, ‘এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমার সহকর্মী। আমি সবার মেয়র। মেয়র পারিষদকে ফোন করে দ্রুত সমাধান করতে বলেছি।’ এতেই বিজেপি প্রার্থী শঙ্করের টিপ্পনি, ‘উন্নয়নের এত যে ডঙ্কা পেটালেন, আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করলেন, তার ফল কী হল। এতদিনে তো দেখিনি যে উনি বেরিয়েছেন। এখন বেরিয়ে নিজের ‘উন্নয়ন কার্ড’ নিজেই প্রকাশ করলেন। ওঁর বড় গাড়ি কালো কাচে ঢাকা। এতদিন এ সব চোখে পড়েনি। ভোট আসতে চোখ খুলল।’

যে শিলিগুড়িতে হাই ভোল্টেজ নির্বাচন হতে চলেছে ২০২৬-এ সেটি  কলকাতা ও আসানসোলের পর পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত এই শহরটি জলপাইগুড়ির সঙ্গে ‘টুইন সিটি’ হিসেবেও পরিচিত। কারণ, শিলিগুড়ি, পার্শ্ববর্তী জলপাইগুড়ি শহরের সাথে মিলে এই যমজ শহর গঠন করেছে। ১৯৫১ সালে গঠিত শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রটি দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৩টি ওয়ার্ডের ১ থেকে ৩০ এবং ৪৫ থেকে ৪৭ দার্জিলিং জেলা বাকি ওয়ার্ডগুলি জলপাইগুড়ি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা পুরোপুরি শহরাঞ্চলভিত্তিক।

পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে মহানন্দা নদীর তীরে গড়ে ওঠা সিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘গেটওয়ে’ বলা হয়। নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শহরটির অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে। একসময় সিকিম রাজ্যের অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম হলেও, ব্রিটিশ আমলে শিলিগুড়ি হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। ১৮৮১ সালে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সূচনা শহরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে ভৌগোলিকভাবে শিলিগুড়ি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সিসমিক জোন–৪-এর অন্তর্গত এই শহর অতীতে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী। ২০১১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বরের ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, যার কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের কাছে কিন্তু এটি শিলিগুড়িতেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল এবং ভবন ও পরিকাঠামোর বিপুল ক্ষতিসাধন করে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ৫.৭ বা তার বেশি মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।

শিলিগুড়ি শহরটি মহানন্দা ও তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত, যা এর অর্থনীতি ও পরিবেশকে টিকিয়ে রাখলেও বর্ষাকালে বন্যার সম্ভাবনা তৈরি করে। শিলিগুড়ি হিমালয়ের পাদদেশের উর্বর সমভূমিতে অবস্থিত, যা চা বাগান ও উঁচু শাল বনে ঘেরা এবং এর উত্তরে রয়েছে ডুয়ার্স, যা তার বন্যপ্রাণী এবং মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও বেঙ্গল সাফারি পার্কের মতো জাতীয় উদ্যানের জন্য পরিচিত। আর চা, কাঠ, পর্যটন ও পরিবহণ, এই চার স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে শিলিগুড়ির অর্থনীতি। চা-বাণিজ্য, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন শিল্প শহরের কর্মসংস্থানের বড় ভরসা। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়ি এই অঞ্চলের প্রধান শহর ও নগরগুলির সাথে সংযুক্তও। জলপাইগুড়ি প্রায় ৪৭ কিমি পূর্বে এবং জেলা সদর দার্জিলিং ৬৩ কিমি উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার ৫২ কিমি দূরে এবং কোচবিহার প্রায় ১৫৪ কিমি পূর্বে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ৫৬২ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত। উত্তরে সিকিমের গ্যাংটক প্রায় ১১৪ কিমি দূরে, আর পশ্চিমে বিহারের পূর্ণিয়া ২৭৮ কিমি দূরে অবস্থিত। এই শিলিগুড়িতে রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্তও। কাকরভিট্টায় নেপাল সীমান্ত রয়েছে ৩০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে, ভুটানের ফুয়েনশোলিংয়ের অবস্থান প্রায় ১৫৫ কিমি উত্তর-পূর্বে আর বাংলাবান্ধার কাছে প্রায় ৬৫ কিমি পূর্বে আছে বাংলাদেশ সীমান্ত।

এদিকে এই শিলিগুড়ি বিধানসভায় ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ২৩৯,০২৬ জন, ২০২১ সালে ২২৮,৪০৬ জন এবং ২০১৯ সালে ২১৫,২৬১ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে তফসিলি জাতির ভোটার ৮.৮৪ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ১.২৬ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ৬.২০ শতাংশ। শিলিগুড়ি সম্পূর্ণ শহরাঞ্চল হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে নাগরিক ইস্যুগুলির গুরুত্ব তুলনামূলক ভাবে বেশি। এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলতেই হয়, ভোটার উপস্থিতির হার বরাবরই চোখে পড়ার মতো। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮০ শতাংশের বেশি। ২০২১ ও ২০২৪ সালেও ৭৫ শতাংশের আশেপাশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই প্রবণতা স্পষ্ট করে যে শিলিগুড়ির ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন।

শিলিগুড়ির রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলে নজরে আসবে শুরুর দিকে শিলিগুড়ি শিলিগুড়ি-কার্সিয়ং নামে পরিচিত ছিল এবং ১৯৫১ ও ১৯৫৭ সালের উভয় নির্বাচনেই এটি একটি দ্বৈত-সদস্য নির্বাচনী এলাকা ছিল; ১৯৫৭ সালের নির্বাচনটি হয়েছিল এর নাম শিলিগুড়ি রাখার পর। ১৯৫১ সালে কংগ্রেস দল এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সফল হয়েছিলেন, আর ১৯৫৭ সালে আসনটি কংগ্রেস এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দখলে যায়। ১৯৬২ সাল থেকে একক-সদস্য নির্বাচনী এলাকা হওয়ার পর থেকে শিলিগুড়ি সব রাজনৈতিক দলের বিধায়কদের নির্বাচিত করে আসছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) আটটি জয় নিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে, যার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা সাতটি বিজয় অন্তর্ভুক্ত। কংগ্রেস দল চারবার এই আসনটি জিতেছে। অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপিও একবার করে এই আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে ২০১১ সাল থেকে তিনটি ভিন্ন দল বিজয়ী হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক ইতিহাসে শিলিগুড়ি একসময় ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ টানা সাতবার জয় পেয়ে সিপিআইএম শহরের রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য ৫,০০৬ ভোটের ব্যবধানে সিপিআই(এম)-এর অশোক ভট্টাচার্যকে পরাজিত করে জয়ী হন। অশোক ভট্টাচার্য এর আগে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা চারবার শিলিগুড়ির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০১৬ সালে অশোক ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ও প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়াকে ১৪,০৭২ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিধায়ক হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টায় শিলিগুড়ির রাজনৈতিক ছবি।২০২১ সালে শিলিগুড়িতে বিজেপি তাদের প্রথম জয় পায়, যখন শঙ্কর ঘোষ ৩৫,৫৮৬ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের ওমপ্রকাশ মিশ্রকে পরাজিত করেন এবং অশোক ভট্টাচার্য বিরাট ব্যবধানে তৃতীয় স্থান পান।

বিজেপি আর তৃণমূলের পাশাপাশি শিলিগুড়িতে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের প্রচারও চলেছে জোরকদমে। মিলছে ব্যাপক সাড়াও। ভুল গেলে চলবে না এই শিলিগুড়ি ছিল বামেদের দুর্গ। আর ২০২১-এ বামেরা বঙ্গ রাজনীতিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও ২০২৬-এ তারা ফিরছে নতুন উদ্যমে, বর্ষীয়ান ও নতুন মুখদের এক মিশেলে। আর শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তীর জনপ্রিয়তাও বিপুল। তাঁকে দেখতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসছেন  মানুষ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রবল দুর্নীতি ও বিভাজনের রাজনিতি ভাবাচ্ছে সাধারন মানুষকে। বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থীদের প্রচারে উঠে আসছে নানা প্রসঙ্গ। প্রচারে বেরিয়ে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তৃণমূলে ও বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের দুই সরকারই সাধারন মানুষের স্বার্থ বিরোধী। শহর মৃতপ্রায়। কি হবে জানি না। কিন্তু এবারের নির্বাচনে শিলিগুড়ির মানুষ পেতে চলেছেন শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তীকে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদিনই তাঁকে সহজভাবে পাবেন মানুষ। সকলের বিপদে আপদে শ্রমিক বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সামনের সারিতেও সবসময় আছেন তিনি। বাম মনোনীত প্রার্থী রাজনীতির উর্ধে উঠে কাজ করবে সে ভরসা আমাদের আছে।

তবে এখানে একটা কথা বোধহয় না বললেই নয়, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন শিলিগুড়ির রাজনৈতিক ময়দান তপ্ত, ঠিক সেই সময়ই সামনে এসেছে এক বিরল দৃশ্য। শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে দেখা যায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী— তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দেব এবং বিজেপির শংকর ঘোষকে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সৌজন্যের এই মুহূর্ত নজর কাড়ে উপস্থিতদের। অনুষ্ঠানের সেই ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমন এক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ বলছেন, এটাই বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি, আবার কারও মতে, ভোটের আগে এটি শুধুই সৌজন্য বিনিময়ের ছবি। আর নির্বাচনী লড়াই যতই তীব্র হোক, এই ধরনের মুহূর্ত রাজনীতির অন্য এক দিক তুলে ধরে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে বিজেপির শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি আসনটি দখল করা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক হিমালয়সম কঠিন কাজ। শুধু তাই নয়, ২০২৬এর বিধানসভা নির্বাচনে ছোট আঞ্চলিক দলগুলি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বহুমুখি করে তুলতে পারে। সঙ্গে এটাও ঠিক যে, বামফ্রন্টকংগ্রেস জোট, যা ২০২৪ সালে মাত্র ৫.৯৯ শতাংশ ভোটে নেমে এসেছিল, ফলে তাদের পক্ষে মূল নির্বাচনী হিসাবনিকাশপাল্টেদেওয়ারসম্ভাবনাকম।তবেফলপ্রকাশেরআগেরাজনীতিতেশেষকথাবলাবড়ইকঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 5 =