এয়ার ইন্ডিয়া মহারাজা ক্লাব লয়্যালটি প্রোগ্রামে আনল এক বড় পরিবর্তন

এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি তাদের মহারাজা ক্লাব লয়্যালটি প্রোগ্রামে নিয়ে এল এক বড় পরিবর্তন। এখন থেকে মহারাজা ক্লাবের সদস্যরা শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটেই নয়, বরং Air India Express-এর ফ্লাইটেও পয়েন্ট জমাতে ও খরচ করতে পারবেন। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টিরও বেশি গন্তব্যে ভ্রমণ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।

প্রথমত, সদস্যরা এখন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করলে Maharaja Points এবং টায়ার পয়েন্ট দুটোই জমাতে পারবেন। বুকিং করার সময় মহারাজা ক্লাব আইডি দিলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে বর্তমানে ফ্লাইট শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট দাবি করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, এক্সপ্রেস ফ্লাইটগুলো এখন টায়ার প্রগ্রেশনের অংশ হবে। অর্থাৎ, এগুলো সদস্যদের দ্রুত সিলভার, গোল্ড বা প্লাটিনাম স্তরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

তৃতীয়ত, পয়েন্ট জমার হারও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে বুকিং করলে: রেড (৮), সিলভার (১০), গোল্ড (১১), প্লাটিনাম (১২) পয়েন্ট প্রতি ₹১০০ খরচে।

ট্রাভেল এজেন্ট বা অন্যান্য চ্যানেলে বুকিং করলে: রেড (৬), সিলভার (৮), গোল্ড (৯), প্লাটিনাম (১০)।

এখন মহারাজা ক্লাবের সদস্যরা এয়ার ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে কোডশেয়ার ফ্লাইটে পয়েন্ট ব্যবহার করে টিকিট নিতে পারবেন। যেমন, দিল্লি থেকে গুয়াহাটি যাওয়ার সময় যদি এয়ার ইন্ডিয়ার কোডশেয়ার ফ্লাইট থাকে যা এক্সপ্রেস পরিচালনা করছে, তাতে পয়েন্ট দিয়ে টিকিট নেওয়া যাবে।

কিছু উদাহরণস্বরূপ রিডেম্পশন রেট:

বেঙ্গালুরু–চেন্নাই: ১,৫০০ পয়েন্ট

মুম্বাই–গোয়া: ২,৫০০ পয়েন্ট

দিল্লি–বেঙ্গালুরু: ৭,০০০ পয়েন্ট

অমৃতসর–দুবাই: ১২,০০০ পয়েন্ট

বেঙ্গালুরু–ব্যাংকক: ১২,০০০ পয়েন্ট

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

আগামী ধাপে সদস্যরা আরও কিছু বিশেষ সুবিধা পাবেন — যেমন প্রাইওরিটি চেক-ইন, প্রাইওরিটি বোর্ডিং, সিট সিলেকশন, এবং ক্যানসেল বা রিসিডিউল ফি মকুফ।

এই প্রসঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যাননিপুণ আগরওয়াল জানান, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মহারাজা ক্লাবকে ক্রমাগত এমনভাবে বিস্তৃত করা যাতে আমাদের বিশ্বস্ত গ্রাহকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তোলে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের নেটওয়ার্ক যত বাড়ছে, ততই এই ফ্লাইটগুলোতে পয়েন্ট জমা ও খরচ করার সুযোগ দেওয়া সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি আমাদের নিয়মিত যাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করছে। একই সঙ্গে, মহারাজা পয়েন্টকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি মূল্যবান মুদ্রায় পরিণত করার আমাদের লক্ষ্যকেও প্রতিফলিত করছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 15 =