এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক ঘোষণাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট থেকে গুয়াহাটি-দুবাই এবং ৭ আগস্ট থেকে গুয়াহাটি-আবুধাবি সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো উত্তর-পূর্ব ভারত সরাসরি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। এই নতুন সংযোগের তাত্পর্য হল,
আঞ্চলিক সংযোগ: গুয়াহাটি ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। প্রায় ১২০টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এটি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র। নতুন আন্তর্জাতিক রুটগুলো এই শহরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে।
পর্যটন উন্নয়ন: সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পর্যটকদের আগমন সহজ হবে, যা আসাম ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে।
বাণিজ্যিক সুযোগ: সরাসরি ফ্লাইট ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজারে পৌঁছানো সহজ করবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
সাংস্কৃতিক বিনিময়: উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্য ও শিল্পকলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস তাদের ‘টেলস অফ ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধ শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে। বিমানের লেজে দেখা যাবে আসামের গামোছা ও জাপি, নাগাল্যান্ডের ছুংকোটেপসু, মণিপুরের মইরাং ফি ও সাফি লানফি, অরুণাচল প্রদেশের ইদু মিশমি, মেঘালয়ের খনেং, এবং মিজোরামের পুয়াঞ্চেই। এগুলো শুধু নকশা নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের গল্প, ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের প্রতীক।
এই উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীতি, পর্যটন ও সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্ব মানচিত্রে অঞ্চলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
এর পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে প্রভূত। যেমন গুয়াহাটি থেকে দুবাই ও আবুধাবি সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এটি পর্যটন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে, পাশাপাশি গুয়াহাটিকে একটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
পাশাপাশি এর ফলে হবে পর্যটন বৃদ্ধিও। কারণ, সরাসরি ফ্লাইটের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পর্যটকদের আসা সহজ হবে। আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হবে। সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে বাণিজ্যিক সুযোগ। যেমন দুবাই ও আবুধাবি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র। সরাসরি সংযোগের ফলে আসাম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষি, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের পণ্য সহজে রপ্তানি করা যাবে। সঙ্গে বাড়বে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিও। কারণ, বিমান চলাচল, পর্যটন, হোটেল, পরিবহন ও খুচরা ব্যবসায় নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। গবেষণা অনুযায়ী, ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরাত এয়ার করিডর সম্প্রসারণ করলে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১.৭ লক্ষ নতুন চাকরি সৃষ্টি হতে পারে। এই সব কিছুর ফলস্বরূপ বাড়বে বিনিয়োগ আকর্ষণও। আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। আসাম সরকার ইতিমধ্যেই গুয়াহাটিকে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।

