সুযোগ এবং সুবিন্যস্ত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সংস্কার ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক বৃদ্ধির প্রয়োজনের কথা তুলে ধরল  প্রিমাস পার্টনার্স এবং অ্যাসোচ্যাম

প্রিমাস পার্টনার্স এবং অ্যাসোচ্যাম-এর যৌথ উদ্যোগে তাদের সাম্প্রতিক লিডারশিপ প্রতিবেদন, ‘দ্য  ১৩৪ লাখ ক্রোর কোশ্চেন : হাউ ইন্ডিয়াজ ফ্যামিলি বিজনেসেস মাস্ট মুভ ফ্রম কাস্টোডিয়ানস টু ক্রিয়েটরস’ প্রকাশিত হল। অ্যাসোচ্যাম ইস্টার্ন রিজিয়নের ‘গ্রোথ ড্রিভেন ফ্যামিলি বিজনেস কনক্লেভ’-এর প্রথম সংস্করণে কলকাতায় এক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত। এই কনক্লেভে প্রিমাস পার্টনার্স নলেজ পার্টনার  হিসেবে যুক্ত ছিল। প্রতিবেদনটি ভারতের অর্থনীতিতে পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসাগুলির পরিবর্তনশীল ভূমিকা পর্যালোচনা করে এবং দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম আন্তঃপ্রজন্মীয় সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সফল রূপায়নের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি তুলে ধরে।

পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে যে, ভারতের জিডিপির প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং মোট ব্যবসার ৮০ শতাংশই আসে পারিবারিক ব্যবসাগুলি থেকে। একইসঙ্গে দেশের কর্মসংস্থানের সিংহভাগও তৈরি করে এই প্রতিষ্ঠানগুলি। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, আগামী এক দশকে আনুমানিক ১.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই প্রতিবেদনটিতে সুবিন্যস্ত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা, আরও শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং উদ্ভাবন-চালিত প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়ার জরুরি প্রয়োজনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে মালিকানা হস্তান্তর এবং নেতৃত্বের প্রস্তুতির মধ্যে একটি বড় ধরনের প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানগুলি ভারতের বৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় স্থিতিস্থাপক ও বলিষ্ঠ অবদানকারী হিসেবে ভূমিকা রাখলেও, ভ্যালু ক্রিয়েশন বা মূল্য সৃষ্টির পরবর্তী ধাপটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, প্রযুক্তিকে আপন করে নেওয়ার এবং উদীয়মান সুযোগগুলিতে পুঁজি বিনিয়োগ করার ক্ষমতার ওপর।

প্রতিবেদনের তথ্য ও পর্যালোচনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রিমাস পার্টনার্স-এর কো-ফাউন্ডার এবং সিইও দেবরূপ ধর বলেন , ‘ভারতের পারিবারিক ব্যবসাগুলি দেশের বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে এবং এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে। তবে আগামী দশকটি, ঐতিহ্য বজায় রাখার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতের জন্য নতুন মূল্য তৈরি করার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার এক বড় পরীক্ষা নেবে। উত্তরাধিকারকে কেবল মালিকানার হস্তান্তর হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে নেতৃত্ব উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং কৌশলগত পুনর্নির্মাণের একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। যারা এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করবেন, তারাই ভারতের বৃদ্ধির পরবর্তী জোয়ারকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।’

এর পাশাপাশি অ্যাসোচ্যাম ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ক্যাপিটাল অ্যান্ড কমোডিটি মার্কেটস-এর কো-চেয়ারম্যান শুভঙ্কর সেন জানান, ‘আজকের দিনে পারিবারিক ব্যবসাগুলি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে উত্তরণ, প্রযুক্তির অভাবনীয় পরিবর্তন এবং বাজারের পরিবর্তনশীল গতিশীলতার এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণ পার করছে। এখানে মূল চ্যালেঞ্জটি কেবল ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নয়, বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যা যুগের পর যুগ ধরে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে পারে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যে রূপান্তর করতে হলে শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো, প্রফেশন্যাল ম্যানেজমেন্ট  এবং বৃদ্ধির একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা অপরিহার্য।’

এর পাশাপাশি এও বলা হয়েছে,  পারিবারিক ব্যবসাগুলির জন্য এই প্রতিবেদনে একটি বাস্তবমুখী ‘ ৩পি ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে প্ল্যান হিসেবে রাখা হয়েছে সুবিন্যস্ত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা এবং নেতৃত্ব উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি করা। পাশাপাশি প্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসনিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। আর পার্সু করার জন্য নতুন উদ্ভাবন, আধুনিক ব্যবসায়িক মডেল এবং ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির সুযোগগুলিতে বিনিয়োগ করা।

সঙ্গে এও বলা হয় যে, ভারত যেভাবে একটি উন্নত অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সেখানে পারিবারিক ব্যবসাগুলি বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান এবং শিল্প প্রবৃদ্ধির রূপরেখা নির্ধারণে বরাবরের মতোই একটি নিষ্পত্তিমূলক বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হয়েছে। ব্যবসায়িক পরিবারগুলো আজ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের ওপরই পড়বে না, বরং তা সামগ্রিকভাবে ভারতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক গতিপথকেও প্রভাবিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =