রিনিউ সোলারের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প ৪,৮৫৯ কোটি টাকায় কিনে নিল আরপিএসজির পূর্বা গ্রিন

দেশের সবুজ শক্তি বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে বড়সড় পদক্ষেপ করল আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা  গ্রুপ। তাদের অধীনস্থ সিইএসসি লিমিটেডের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সংক্রান্ত সংস্থা ‘পূর্বা গ্রিন পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড’ রিনিউ সোলার পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের ১.৪ গিগাওয়াট পিক (GWp) ক্ষমতার একটি চালু সৌর বিদ্যুৎ পোর্টফোলিও কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্পূর্ণ নগদ লেনদেনে এই চুক্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,৮৫৯ কোটি টাকা (প্রায় ৫০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

রাজস্থান এবং কর্ণাটকে বিস্তৃত মোট ছয়টি বিশেষ প্রজেক্ট সংস্থার (SPV) মাধ্যমে পরিচালিত এই সৌর প্রকল্পগুলি এখন থেকে পূর্বা গ্রিনের নিয়ন্ত্রণে আসবে। ভারতীয় বাজারে চালু থাকা বা কর্মক্ষম সৌর সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বৃহত্তম চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চুক্তির ফলে পূর্বা গ্রিনের সার্বিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতদিন ধরে সংস্থাটি মূলত প্রস্তাবিত এবং নির্মাণাধীন প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে এই অধিগ্রহণের ফলে অবিলম্বে নিশ্চিত এবং স্থায়ী রাজস্ব আয়ের মুখ দেখতে চলেছে সংস্থাটি। অধিগৃহীত প্রকল্পগুলির উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯০ শতাংশের বেশি ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির (PPA) অধীনে ‘সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’র (SECI) কাছে বিক্রি করা হয়। অবশিষ্টাংশ সরবরাহ করা হয় কর্ণাটকের রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলিকে।

এই অর্জন প্রসঙ্গে আরপিএসজি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শাশ্বত গোয়েঙ্কা জানান, “এই চুক্তি আমাদের পরিবেশবান্ধব শক্তি যাত্রাকে বহুলাংশে ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে একদিকে যেমন আমাদের পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেল, তেমনই সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী আয়ের পথও সুদৃঢ় হলো। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী থেকে একটি বহুমুখী এবং আধুনিক শক্তি প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে এই পদক্ষপে আরপিএসজি গ্রুপকে এক ধাপ এগিয়ে দিল।”

এক নজরে নতুন পোর্টফোলিও:

  • মোট চুক্তিবদ্ধ ক্ষমতা: ৩.৪ গিগাওয়াট পিক থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৪.৮ গিগাওয়াট পিক
  • সক্রিয় সৌর ক্ষমতা: ১.৮ গিগাওয়াট পিক।
  • নির্মাণাধীন প্রকল্প: ৩.০ গিগাওয়াট পিক।
  • ব্যাটারি স্টোরেজ: ২.২ গিগাওয়াট-আওয়ার (GWh) স্টোরেজ ক্ষমতা প্রক্রিয়াধীন।

গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তাদের মোট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা ১০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অধিগ্রহণ সেই লক্ষ্যপূরণের পথকে আরও মসৃণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =