স্টোরওয়েল থেকে স্মার্ট ওয়ার্কস্পেস, কলকাতায় ১০০ বছর উদযাপন করছে গোদরেজ

গোদরেজ এন্টারপ্রাইজেস গ্রুপের অংশ গোদরেজ অ্যান্ড বয়েস এবছর কলকাতা শাখার ১০০ বছর উদযাপন করছে। বম্বের বাইরে কলকাতা ছিল কোম্পানির একেবারে প্রথম দিককার সম্প্রসারণগুলোর অন্যতম। বর্তমানে কলকাতা শাখা গোটা দেশের সবচেয়ে বড় শাখা বলেই পরিগণিত। ১৯২৬ সালে ক্লাইভ স্ট্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই শাখা। ওই অঞ্চল তখন কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকার প্রাণ ছিল। সেই শাখা এখন পূর্ণ আকারের আঞ্চলিক সদর দফতর হয়ে উঠেছে সেক্টর ফাইভ, সল্টলেকে, যেখানকার টিমে ২০০-র বেশি কর্মচারী কাজ করেন।

এই মাইলফলক সম্পর্কে নায়রিকা হোলকর, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, গোদরেজ এন্টারপ্রাইজেস গ্রুপ, বলেন “কলকাতা শাখা তার দ্বিতীয় শতক শুরু করতে চলেছে। এই সময়ে আমাদের দায়িত্ব হল পূর্ব ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সেই যুগান্তকারী মনোভাব দিয়ে পূরণ করে এক বিশ্বস্ত উত্তরাধিকার গড়ে তোলা, যা গত একশো বছর ধরে আমাদের পথ দেখিয়েছে। যাতে একথা নিশ্চিত করা যায় যে আমাদের উত্তরাধিকার আগামী বহু প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।”

গোদরেজের কাহিনি শুরু হয় ১৮৯৭ সালে, যখন আর্দেশির গোদরেজ বম্বেতে (এখনকার মুম্বই) এই প্রত্যয় নিয়ে এক তালা তৈরির উদ্যোগ তৈরি করেন যে, ভারতীয় নির্মাণ আমদানি করা পণ্যের সমান বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারে। সেই ভাবনা কলকাতায় পৌঁছয় ১৯২৬ সালে। কলকাতা তখন ভারতের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বাণিজ্য কেন্দ্র, যেখানে স্বদেশি আন্দোলন ভারতীয়দের তৈরি পণ্যের চাহিদা জোরদার করে তুলেছিল, ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল হাউসগুলোকে আমদানি করে আনা সিন্দুকের দেশীয় বিকল্প জুগিয়ে গোদরেজ দেশিয় শিল্পের উপর বিশ্বাস তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। ফলে ক্রমশ গোদরেজের আসবাবপত্র, টাইপরাইটার এবং ইন্টেরিয়র বাড়ি ও অফিসের রোজকার জীবনযাপনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। পরবর্তী এক শতকে কলকাতা শাখা শহরটার পাশাপাশিই বেড়ে ওঠে। গোদরেজের সিন্দুক ও স্টিলের আলমারি ব্যবসায়ীদের বিশ্বস্ত জিনিস হয়ে ওঠে, অন্যদিকে ১৯৫৫ সালে বাজারে আনা ভারতের প্রথম দেশিয় টাইপরাইটার, অফিসগুলোর রূপান্তর ঘটিয়ে দেয় এবং কলকাতার প্রবাদপ্রতিম ফুটপাথের টাইপিস্টদের জন্ম দেয়। ১৯৯০ সালে যখন এই শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র অন্যত্র সরে যায়, তখন গোদরেজের শাখা সল্টলেকে সরে যায় কলকাতার নিজের পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসাবে।

এই প্রসঙ্গে বৃন্দা পাথারে, হেড অফ গোদরেজ আর্কাইভস, গোদরেজ এন্টারপ্রাইজেস গ্রুপ, জানান, ‘গোদরেজ এন্টারপ্রাইজেস আর্কাইভস কেবল এই সংগঠনের কাহিনিই নয়, সেইসব গোষ্ঠী ও শহরের কাহিনিও বটে, যেগুলো আমাদের যাত্রাকে আকার দিয়েছে। কলকাতায় আমাদের স্বদেশি টাইপরাইটারগুলো এই শহরের পেশাদার সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে উঠেছিল, পাশাপাশি প্রবাদপ্রতিম গোদরেজ স্টোরওয়েল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালি ঘরে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। তার মধ্যে মূল্যবান জিনিসপত্রের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিও সংরক্ষিত থাকে। এই ভাগ করে নেওয়া অভিজ্ঞতাগুলো দেখিয়ে দেয় যে আমাদের প্রোডাক্ট কীভাবে রোজকার জীবনে যুক্ত হয়ে যায়, যার ফলে আর্কাইভ কেবল কোম্পানির নথি হয়ে থাকে না, একটা শহরের বদলাতে থাকা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও আর্কাইভ হয়ে ওঠে।’

এই উপলক্ষে গোদরেজ তার কর্মচারীদের জন্য এক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে, যেখানে কলকাতা শাখার ১০০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে । এই প্রদর্শনীতে গোদরেজ আর্কাইভের ছবির সংগ্রহ, চিঠিপত্র, বিজ্ঞাপন এবং কিছু ব্যক্তিগত বয়ান ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে কলকাতা শহরের নিজের বদলের পাশাপাশি কোম্পানির কলকাতা শাখার যাত্রাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্লাইভ স্ট্রিটের প্রথম দিককার ছবি এবং শাখার প্রথম স্টোরফ্রন্টগুলোর ছবি থেকে শুরু করে টাইপরাইটার যুগের নিদর্শন এবং কলকাতার ফুটপাথের টাইপিস্টদের সংস্কৃতি, সেখান থেকে সল্টলেক পর্যন্ত কলকাতা শাখার বৃদ্ধি এখানে দেখানো হয়েছে। ফলে প্রদর্শনীতে আসা অতিথিরা গোদরেজ ও কলকাতার যৌথ ইতিহাসের এক বিরল এবং দুষ্প্রাপ্য বেশ কিছু ছবি দেখতে পাবেন।

এর পাশাপাশি সংস্থার তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, আজ একশো বছর পরে কলকাতা শাখা কেবল দীর্ঘায়ুর চিহ্ন নয়, বদলের মধ্যে ধারাবাহিকতারও নিদর্শন। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কোম্পানি তার সেই উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে যার শিকড় উদ্যোগের মধ্যে প্রোথিত, ইতিহাস দ্বারা গঠিত এবং এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে টিকে থেকেছে যে প্রত্যেক প্রজন্মই তার আগের প্রজন্ম যেখানে শেষ করেছিল সেখান থেকে কাজ শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − two =